জঙ্গে জামাল ও জঙ্গে সিফ্ফিনের কারণ :-
জঙ্গে জামাল ও জঙ্গে সিফ্ফিন দু'টো যুদ্ধই হয়েছে মূলত হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাঃ এঁর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে । উম্মুল মো'মোনীন মা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহা ও হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এঁর ধারণা ছিলো যে, এ হত্যাকাণ্ড মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর লোকজন করেছেন এবং ক্ষমতার জন্যে মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু এ হত্যাকাণ্ডের বিচারে অবহেলা বা অনীহা প্রকাশ করেছিলেন । এটাই উনাদের উভয়ের ইজতিহাদী বা গবেষণামূলক ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো । কেননা, মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু মূলত এ ঘটনা জানতেনইনা । তিনি তখন কুফায় অবস্থান করছিলেন, আর বিদ্রোহ হয়েছিল মদিনায় । মদিনায় যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা ছিলো বিদ্রোহী ।
যার কারণে মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু অবশ্যই ১০০% হক্ব ছিলেন । যেহেতু মা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহা ও মুয়াবিয়া রাঃ এঁর কাছে ভুল তথ্য জানানো হয়েছে, উনারা কোনরূপ যাচাই-বাছাই না করে মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর বিপক্ষে খুনের দায়ভার দিয়ে উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া বা উনাকে হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাঃ এঁর শাহাদাতের বিষয়ে দায়ী করাটাই ছিলো উনাদের ইজতিহাদী ভুল সিদ্ধান্ত । এ জন্যেই বলা হয়েছে যে, মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু হক ছিলেন এবং মা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহা ও মুয়াবিয়া রাঃ এঁর সিদ্ধান্ত উনাদের গবেষণাগত ভুল ছিলো । এ যুদ্ধে শিয়া ও খারেজী উভয়পক্ষের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করে দিয়েছিলো । যা আজও এই ২ শ্রেণির মুনাফিক্ব করে যাচ্ছে ।
যারা এ দুটি যুদ্ধ নিয়ে বাড়াবাড়ি করে হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাঃ এঁর শাহাদাতকে ভিন্নাখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে, তারাই হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাঃ এঁর শাহাদাতকারী মুনাফিক্বচক্রের উত্তরসূরী ।
উল্লেখ্য যে, হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাঃ এঁর শাহাদাতের দিবসে শিয়ারা ঈদে গাদিরেখুম পালন করে । যা অতিশয় নিন্দনীয় ও দুঃখজনক !
এ ঘটনায় মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু তথা পবিত্র আহলে বাইতের শান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ।
মূলতঃ শিয়ারা কখনোই সাইয়্যিদুনা মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু তথা পবিত্র আহলে বাইতের প্রকৃত প্রেমিক বা প্রিয়জন নয় । তারাই পবিত্র আহলে বাইতের সবচেয়ে বড় দুশমন ।
প্রকাশ্যভাবে শিয়ারা নানাভাবে নিজেদেরকে পবিত্র আহলে বাইতের প্রেমিক হিসেবে দেখালেও তাদের হাক্বিক্বাত ভিন্ন । যার মধ্যে লুকিয়ে আছে পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি চরম সুক্ষ বিদ্বেষ ।
তারা মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু তথা পবিত্র আহলে বাইতের শান অতিরঞ্জিত বাড়াবাড়ির মূল কারণ হলো, সাধারণ মুসলমানদের চোখে মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুকে হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাঃ এঁর শাহাদাতের বিষয়ে দোষী সাব্যস্ত করার অপচেষ্টা করা এবং মা আয়িশা রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহা ও হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এঁর পক্ষ নিয়ে লোকজন যেন পবিত্র আহলে বাইতের শানে মানহানিকর কথাবার্তা বলে । নাউজুবিল্লাহ !
আরেকটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা জরুরী । আর তা হলো, খারেজীরা মূলতঃ শিয়াদেরই অংশ । খারেজীরা কখনোই হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এঁর পক্ষে ছিলোনা এবং আজো নেই । খারেজীরা প্রিয়নবীজ্বির ৫ জন সাহাবীকে খুব খারাপ নজরে দেখে । উনারা হলেন ---
১. শেরেখোদা মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু,
২. হযরত মুয়াবিয়া রাঃ,
৩. আমর ইবনুল আস্ রাঃ,
৪. হযরত তালহা রাঃ,
৫. হযরত জুবাইর রাঃ
সিফ্ফিনের যুদ্ধে এ খারেজীরা শিয়ানে আলী হিসেবে মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর পক্ষে যুদ্ধে নামে । পরে মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর সাথে মতবিরোধ করে উনার দল ত্যাগ করে চলে যায় ।
এ শিয়া ও খারেজী উভয়পক্ষের মূল শিকড় হলো কুখ্যাত মুনাফিক্ব আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা আল ইহুদি ।
আজো শিয়া ও খারেজীরা একে অপরের পরিপূরক । তারা শেরেখোদা মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু এবং আমীর মুয়াবিয়া রাঃকে নিয়ে এতো বাড়াবাড়ির মূল কারণ হলো, সিফ্ফিনের যুদ্ধের খলনায়ক কুখ্যাত মুনাফিক্ব আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার অপকর্মের দিক থেকে জনগণের চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া । এ জন্যেই খেয়াল করে দেখুন যে, তারা প্রিয়নবীজ্বির সাহাবী হযরত মুয়াবিয়া রাঃ সম্পর্কে যতো অশালীন কথা বলে বা ইসলামের প্রথম ৩ খলিফা সম্পর্কে যতো অপবাদ দেয় বা মা আয়িশা ছিদ্দিকা, হযরত তালহা, হযরত জুবাইর, হযরত আবু হুরায়রা বা হযরত আমর ইবনুল আস্ রাঃ সম্পর্কে যতো অপবাদ দেয়, তার শতভাগের ১ ভাগও তারা ইবনে সাবা বা মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর খুনি কুখ্যাত মুনাফিক্ব খারেজী নেতা আব্দুর রহমান ইবনে মুলজামের নাম উল্লেখ করেনা । তাদের সবগুলো বই তন্নতন্ন করে খোঁজলেও আপনি তাদের এই ২ নেতার নাম খোঁজে পাবেননা ।
যেসকল শিয়ারা হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এবং উনার পিতা-মাতাকে উমাইয়া হিসেবে গালি দেয়, তাদেরকে একবার প্রশ্ন করুন তো যে, হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাঃ কোন্ বংশের ?
তাদেরকে প্রশ্ন করুন তো যে, উমাইয়া গোত্রের সন্তান হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাঃ এঁর কাছে প্রিয়নবী হুজুর আন্ওয়ার চ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার ২ কন্যা ( হযরত রোকাইয়া রাঃ ও হযরত কুলসুম রাঃ ) কে বিয়ে দিলেন কেন ?
তাদেরকে প্রশ্ন করুন তো যে, হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাঃ এঁর শাহাদাতের দিনে তারা ঈদে গাদিরেখুম পালন করে কেন ?
তাদেরকে প্রশ্ন করুন তো যে, হযরত মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর পবিত্র বিয়ের মোহরানা মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুকে হাদিয়া দিয়েছেন কে ?
এমন আরো শত শত প্রশ্ন আছে । যার জবাব শিয়াদের কাছে নেই ।
মূলতঃ শিয়া ও খারেজী উভয়পক্ষই পবিত্র আহলে বাইত, ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রু এবং জঘন্য মুনাফিক্ব । শিয়া ও খারেজীদের মিথ্যা, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা ও অপকর্মের ইতিহাস এতোটাই সুদীর্ঘ যে, তা পুরো ৩ মাস অনলাইনে লিখেও শেষ করা যাবেনা ।
তাদের উপরে মহান আল্লাহ পাকের লা'নত বর্ষিত হোক ।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে হলে ইমাম সুয়ুতী রহঃ এঁর তারিখুল খোলাফা পাঠ করুন ।

0 মন্তব্যসমূহ