Ticker

6/recent/ticker-posts

কামিল পীর বা মুর্শিদ যাচাই করার বা চেনার উপায়


 👉👉 কামেল পীর হওয়ার শর্ত সমূহ  💚💚 

------ সাইয়্যিদ আব্দুল ক্বাইয়ুম আল হোসাইনী । 


💚💚 কামেল পীর হওয়ার জন্য শাহ ওলী উল্লাহ

মোহাদ্দেসে দেহলবী(রহঃ)আল কাওলুল

জামীল কিতাবের ১৩নং পৃষ্ঠায় ৫টি

শর্ত আরোপ করেছেন, 

আর কাজী সানা

উললাহ পানিপথী(রহঃ)'র

এরশাদুত তালিবীন কিতাবের ২৬৩ নং পৃষ্ঠায় 

৮টি শর্ত আরোপ করেছেন । 

মোটকথা

কামেল পীর হওয়ার জন্য ১৩ টি শর্ত রয়েছে । এ শর্তগুলো যাচাই-বাছাই করে তার পরে বা'য়াত বা মুরিদ হবেন । আবেগের বশে যার, তার কাছে মুরিদ হবেননা। 

কারণ, হাশরের ময়দানে পীরদের মধ্যে ১২টি দল হবে এবং একটি দল ছাড়া বাকী ১১ দল পীর ও তাদের মুরিদান জাহান্নামে যাবে। 

বিধায়, বা'য়াত বা মুরিদ হবার আগে অবশ্যই এ শর্তগুলো যাচাই করুন । 


(১) তাফসির,হাদীস,ফিকাহ,সমপর্কে

বিজ্ঞ হতে হবে,কমপক্ষে তাফসিরে

জালালাইন অথবা তাফসিরে মাদারেক

শুরু থেকে শেষ পযর্নত শরীয়াত সম্মত

আলেমের নিকট ভালোভাবে বুজে,পড়ে

আয়ত্ব করতে হবে,হাদীস শাস্ত্রে

কমপক্ষে মেশকাত অথবা তার

সমপরিমাণ কোন হাদীসের কিতাবকে

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শরীয়াত সম্মত

আলেমের নিকট ভালোভাবে বুঝে পড়ে

আয়ত্ব করতে হবে,ফিক্বাহের ব্যাপারে

কমপক্ষে ইবাদাত ও মোয়ামেলাত এর

মৌলিক ২০ প্রকার ইলম,যথা আকাইদ,ত্বহারাত,

নামাজ,যাকাত,রোজা,হজ্ব,তেলাওয়াত

কোরআন,জিকির ও

দোয়া,তারতীবুল আওরাদ,**খানাপিনা,নিকাহ,রোজগার,হালাল-হারাম,নির্জন বাস,দুস্তি-ছোহবাত,ছফর,পিতা-মাতা সন্তান গংয়ের হক্ব,আত্বীয় স্বজনের হক্ব যথা(ইয়াতীম,মিসকিন,প্রতিবেশি,পথিক,ধনী,দরিদ্র,

রাজা,প্রজা,রাজনীতি,গং ও অনন্য

যাবতীয় সৃষ্টির হক)পীর ও মুরীদের

হক)প্রকার মাসায়েল আবশ্যক পরিমান

শিক্ষা করে আমলদার হতে হবে । 


(২)পীর

সাহেবের মুত্তাকি-পরহেজগার এবং

ন্যায় পরায়ন হতে হবে । 


(৩) দুনিয়াদার

হতে পারবেনা । সর্বদা আখেরাতের

ফিকিরকারী হতে হবে । জরুরী ইবাদাত

জিকির - আজকার ইত্যাদিতে মাশগুল

হতে হবে । 


(৪) সৎ কাজের আদেশ অসৎ

কাজের নিষেধকারী উত্তম চরিত্রবান

ও স্বাধীনচেতা হতে হবে । কারণ, পরমুখাপেক্ষী ব্যক্তি কখনোই হক্বকথা বলতে পারেনা এবং নিজেও হকের পথে অটল থাকতে পারেনা । 


(৫) দীর্ঘদিন

পর্যন্ত কোন কামেল পীরের সঙ্গ লাভ করতে

হবে এবং পূর্ণ রিয়াজতের পরে মুর্শিদ কতৃক ইযায়ত বা খিলাফত প্রাপ্ত হতে হবে । স্বপ্নযোগে বা কোন ছলচাতুরী বা অর্থের বিনিময়ে প্রাপ্ত খেলাফত এ ক্ষেত্রে অবশ্যই বাতিল বলে গন্য হবে । 


(৬) নাহু -সরফ, আদব ও বালাগাত - মানতিক

ইত্যাদি শাস্ত্রে পারদর্শী হতে

হবে । 


(৭) ইলমে জাহের তথা শরীয়তের ইলমের পাশাপাশি অবশ্যই তাকে ইলমে বাতেন অর্জন করতে হবে এবং ইলমে তাছাউফের কিতাব সমূহ

ভালভাবে পড়তে হবে । 


(৮ )  ইলমে জাহের ও ইলমে বাতেনের সমন্বয়ে নিজের আখলাক বা চরিত্রকে আখলাকে হাসানাহ তথা উত্তম চরিত্র হিসেবে গঠন করতে হবে । 

 তাছাউফের

ইলম শিক্ষা করার পর সৎ স্বভাব অর্জন

এবং অসৎ স্বভাব বর্জন করতে সক্ষম হতে

হবে । 


(৯) কামালিয়্যাতের নুর এবং

ফয়েজ পরিপূর্ন অর্জন করতে হবে । এ নূর ও ফায়েজ বিকশিত হবে তার ঈমান, আক্বিদা, আ'মল, আখলাক ও আদবের মাধ্যমে । কারো সুন্দর চেহারা তার কামালিয়াতের নূরের প্রমাণ নয় । বিধায়, চেহারা সুন্দর ও পরিপাটি হলেই কাউকে কামিল, মোকাম্মাল মনে করা যাবেনা । 


(১০)খাঁটি কামেল মোর্শেদের নিকট থেকে  ইলমে

তাছাওফ অধ্যায়ন করতে হবে এবং পরিপূর্ণ কামালিয়াত অর্জন করতে হবে । সেক্ষেত্রে পীর বা মুর্শিদকে অবশ্যই কঠিন রিয়াজতকারী হতে হবে । কোন পীরের আক্বিদা বা ছিলছিলায় যদি আক্বিদাগত সমস্যা থাকে, তাহলে ঐ পীর বা ছিলছিলা অবশ্যই পরিত্যাজ্য । 


(১১) শুধু কামালিয়াত হাছিল করলেই হবেনা। পরবর্তীতে খিলাফতের দায়িত্ব পালনের জন্যে মুর্শিদ তথা শায়েখে কামিলের প্রকাশ্য অনুমতি প্রাপ্ত হতে

হবে । এটা লিখিত বা মৌখিক যেভাবেই হোক । তবে অবশ্যই তা জনসম্মুখে হতে হবে । যাতে খিলাফতের স্বাক্ষী  থাকে । স্বাক্ষীবিহীন বিয়ে ও খিলাফত অবশ্যই বাতিল বলে গন্য হবে । 


(১২)  নিজের যোগ্যতা ছাড়া পৈতৃক সূত্রে কেউ পীর বা মুর্শিদ হবার যোগ্য নন । কারন, হাক্কানী মুর্শিদ মুরিদের ক্বালবের ডাক্তার বা চিকিৎসক । বিধায়, পরিপূর্ণ যোগ্যতা ছাড়া যে এ দায়িত্ব নিবে, সে নিজেও ধ্বংস হবে এবং সাধারণ মানুষকেও চিরতরে ধ্বংস করে দিবে । বিধায়, ১০০% সাবধান ! 


( ১৩)  পীর বা মুর্শিদকে অবশ্যই যথাযথ ভাবে শরীয়তের অনুসারী হতে হবে । ফরজ, ওয়াজিব, ছুন্নাত, নফল ও মুস্তাহাব আ'মলের বিষয়েও তিনি যত্নশীল হবেন  এবং অন্তরে সর্বদা তাক্বওয়া বা খোদাভীতি পরিলক্ষিত হবে । 


এছাড়াও আরো কিছু নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে । যা বিভিন্ন তাসাউফের কিতাবে পাবেন । 

উল্লেখিত এই ১৩ টি শর্ত ছাড়া কখনো কোন পীরের কাছে বা'য়াত বা মুরিদ হবেননা । 


👉👉  ওহাবীদের কিতাবে কামিল পীরের নিদর্শন   💚💚


👉👉 ওহাবীদের নেতা  মৌলভী 

আশরাফ আলী থানবীর কসদুস সাবিল কিতাবের

মধ্যে কামেল পীরের ১০ টি আলামত

উল্লেখ করেছেন  ঃ---- 


(১)তাফসির,হাদীস,ফিকহ শাস্ত্রে বিজ্ঞ

হতে হবে,,।


(২) আকিদা,আমল,আখলাক

,শরীয়াত অনুযায়ী হতে হবে,,।


(৩)নাজায়েজ পন্থায় দুনিয়ার মহব্বত

থাকিতে পারিবে না,,।


(৪) কামেল পীরের সঙ্গ লাভ করে 

আত্তসুদ্ধি করতে হবে,,।


(৫) সম সাময়ীক সুন্নত তরিকার

পীর মাশায়েখরা তিনাকে ভাল

জানিবে,,।


(৬) দুনিয়াদার লোকদের

তুলনায় দিনদার লোকেরা তাঁকে বেশি

ভালোবাসিবে,,।


(৭) তিনার অধিকাঃশ

মুরিদান দুনিয়াকে ভালোবাসিবে

না,এবং সাধ্য অনুযায়ি শরীয়াতের

পাবন্দী করিবে,,।


(৮) তিঁনি গুরুত্বের

সহিত মুরিদ দিগকে তালীম,তালকীন

দিবে এবং তাদের ভুল ত্রটিকে

সংশোধন করে দিবেন,,।


(৯) কিছু দিন

এখলাসের সহিত তিনার সঙ্গ লাভ

করিলে দুনিয়ার মহব্বত কমে যাবে এবং

আখেরাতের চিন্তা ও আল্লাহ-রাসুলের

মহব্বত বেড়ে যাবে,,।


(১০) তিনি নিজেও

জেকের আজকারে মাশগুল

থাকবেন । 

মহান আল্লাহ পাক প্রিয়নবীজ্বির নূরানী ক্বদম মোবারকের উছিলায় এবং পবিত্র আহলে বাইতে রাছুল চ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছদকায় আমাদের সবাইকে হাক্কানী মুর্শিদের সোহবতে  সঠিক ইলম

অর্জন করার এবং সে অনুযায়ী যথাযথ আ'মল করার তাওফিক দান করুন ।  আমীন । 

---- কালাগুজা গাউছিয়া হোসাইনীয়া দরবার শরীফ, 

জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ । 

১৩/০৫/২০২০ ইং, 

১৯ রমজান, ১৪৪১ হিজরী ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ