Sayeed Abdul Qayum Al-Hossainy
সে তখন নাবালক শিশু ছিলো । তার বাবা হিকাম একজন কুখ্যাত মুনাফিক্ব ছিলো । নবীজ্বি হিকামের নাম উল্লেখ করে তাকে মসজিদে নববী শরীফ থেকে বের করে দিয়েছেন ।
হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর যুগে মারওয়ান ইসলাম ক্ববুল করে । হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু তাকে সৈন্য বাহিনীতে নিয়োগ দেন এবং হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এঁর এলাকায় নিযুক্ত করেন । তারপর থেকে মারওয়ান হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এঁর অধীনস্থ আর্টিলারি রেজিমেন্টটের দায়িত্বে ছিলেন ।
হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এঁর পক্ষে থাকাকালীন সময়েই মারওয়ান বহু অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। যার কারণে হযরত মুয়াবিয়া রাঃ তাকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করেন ।
পরবর্তীতে সে তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে হযরত মুয়াবিয়া রাঃ তাকে ক্ষমা করেন এবং সেনাবাহিনীর পরিবর্তে তাকে পরামর্শক নিয়োগ দেন ।
এমতাবস্থায় সে অত্যন্ত গোপনে বনু আস ও বনু উতায়বা গোত্রের সাথে যুক্ত হয়ে হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এঁর বিরোধিতা শুরু করে।
তার কুটনৈতিক বুদ্ধিতেই হযরত মুয়াবিয়া রাঃ ও হযরত মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠে ।
ঐতিহাসিকদের মতে, সিফ্ফিনের যুদ্ধের জন্যে প্রকৃতপক্ষে মারওয়ান ইবনে হিকাম দায়ী বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে ।
পুরো বিষয়টি হযরত মুয়াবিয়া রাঃ বুঝে উঠার আগেই মারওয়ান ও খিলাফতের বিরোধী চক্র ইয়াজিদকে ক্ষমতার লোভে আকৃষ্ট করে এবং এ বিষয়ে সামগ্রিক কুটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে ।
হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এঁর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে মারওয়ান ইয়াজিদের পক্ষে গভর্ণরদের জোরালো কার্যক্রম শুরু করে ।
হযরত মুয়াবিয়া যখন পুরো বিষয়টি বুঝতে পারলেন, তখন উনার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ছিলো খুবই বিপন্ন ।
ইয়াজিদের সাথে মৌখিক চুক্তি মোতাবেক মারওয়ান মদিনার গভর্ণর অবস্থায় মদিনাবাসীর উপরে চরম নির্যাতন চালায়। যার সমস্ত দায়দায়িত্ব এসে পড়ে হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এঁর উপরে ।
এক কথায় মারওয়ান ইবনে হিকাম প্রকৃতপক্ষে একজন দূরদর্শী মুনাফিক্ব ছিলো ।
আমরা হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এঁর সাহাবিয়্যাত নিয়ে আলোচনায় আছি । তবে কখনোই মারওয়ান ইবনে হিকামের পক্ষে নয় ।
ইসলামের ইতিহাসে মারওয়ান ও তার পরবর্তী বংশধরদের অসংখ্য কুকীর্তি রয়েছে ।

0 মন্তব্যসমূহ