Ticker

6/recent/ticker-posts

শিয়াবাদের চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছে সুন্নীয়াত ! কাণ্ডারী হুঁশিয়ার !!!

 


✍️✍️ শিয়াবাদের চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছে সুন্নীয়াত !  কাণ্ডারী হুঁশিয়ার !!! 

✒️✒️ সাইয়্যিদ আব্দুল ক্বাইয়ুম আল হোসাইনী । 

✍️✍️ গত কয়েক বছরের নিবিড় গবেষণায় একটি বিষয় খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলাম যে, শিয়াবাদের চোরাবালিতে তিলে তিলে ডুবে যাচ্ছে সুন্নীয়াত । খুব সুক্ষ্ম কৌশলে চলছে শিয়াবাদের চাষাবাদ ! 

অনলাইন ও  অফলাইনে শিয়াদের কার্যক্রম এখন এতোটাই গভীর এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে, সমুদ্রের তলদেশের সুঁই খুঁজে পাওয়া যতোটা কঠিন , তারচেয়েও শতগুণ বেশি কঠিন হয়ে গেছে শিয়াবাদের চোরাবালিতে ডুবে যাওয়া প্রকৃত সুন্নীয়াতকে খুঁজে পাওয়া । 

গত কয়েক বছরে, বিশেষভাবে গত কয়েক মাসে শিয়াবাদ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা - সমালোচনা হয়েছে এবং হচ্ছে  । তবে অধিকাংশই আবেগ ও অজ্ঞতার ভিত্তিতে  । শতকরা ৯৯% সুন্নী আলেমদের শিয়া মতবাদ , তাদের কুফুরী আক্বিদা ও শিয়াবাদ প্রচারের কৌশল সম্পর্কে কোনই ধ্যান-ধারনা নেই । পক্ষে - বিপক্ষে সবাই কথা বলছে শুধুমাত্র আবেগে ও হুজুগে  ! 


যাইহোক, এবার আমি আপনাদের সামনে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরছি । এই পয়েন্ট গুলো খুব ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করুন । অতঃপর ঈমানের সাথে বলুন --- আপনি শিয়া, নাকি সুন্নী ? 

ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো বিশ্বাসঘাতক মুনাফিক্ব হলো এই শিয়ারা । তাদের কলাকৌশল সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকার কারণে সুন্নীরূপী মুনাফিক্ব শিয়ারা তিলে তিলে কেড়ে নিচ্ছে আমাদের ঈমান । 

মুসলমানদের কাছে পবিত্র আহলে বাইত খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয় ! ঈমানদার মুসলমানেরা প্রিয়নবীজ্বির ভালোবাসায় বিভোর হয়ে পবিত্র আহলে বাইতকে নিজেদের জানের চেয়েও বেশি ভালোবাসে । মুনাফিক্ব শিয়ারা সুন্নী মুসলমানকে বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট করার জন্যে আহলে বাইতের এই পবিত্র ভালোবাসাকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে  । 

উল্লেখ্য যে, শিয়ারা ৩৬ টি উপদলে বিভক্ত । কিন্তু তাদের সবার মৌলিক আক্বিদা এক ও অভিন্ন । যেমন, ওহাবীরা ১৬৪ উপদলে বিভক্ত । কিন্তু তাদের সবার মৌলিক আক্বিদা এক ও অভিন্ন । 

শিয়াবাদের প্রথম টার্গেট হযরত মুয়াবিয়া রাঃ । সিফ্ফিনের যুদ্ধ ও পরবর্তী কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে মাওলায়ে কায়িনাত হযরত মাওলা আলী আলাইহিস সালামের সাথে হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এঁর যে বিরোধ, সেটাকে পূঁজি করেই শিয়ারা তাদের প্রথম অস্ত্র নিক্ষেপ করে । 

একটি কথা বলা খুবই জরুরী যে, যুগ যুগ ধরে মুহাক্বিক্ব উলামায়ে কেরাম শিয়াদের একটি বদখাসিয়তকে খুব গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন --- আর তা হলো তাকিয়া বা মিথ্যাপ্রচার !  শিয়ারা জগতের সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী ।  তারা ইসলামের নামে এমন সব মিথ্যা কথা আপনাকে বলবে, যে আপনি তা বিশ্বাস না করে পারবেননা । পবিত্র আহলে বাইতের সাথে বারবার বিশ্বাসঘাতকতার অপর নামই হলো শিয়া । প্রিয়নবীজ্বি থেকে শুরু করে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈ, তাবে তাবেঈ, মাজহাবের ইমাম, আকায়েদের ইমাম, হাদিসের ইমাম ও মুহাক্বিক্ব উলামায়ে কেরাম সহ কেউ তাদের সমালোচনা থেকে রেহাই পায়নি । যুগ যুগ ধরে তাদের মিথ্যাচারীতা ও ধোঁকাবাজির বিরুদ্ধে উলামায়ে আহলে ছুন্নাত কলম ধরেছেন, প্রতিবাদ করেছেন এবং তাদের আপত্তিকর বক্তব্যের জবাব দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন । 

হিজরি চতুর্দশ শতকের মুজাদ্দিদ আ'লা হযরত ইমাম আহমাদ রেজা খান রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু এ শিয়াদের বিরুদ্ধে ৫ টি কিতাব লিখেছেন । হাজার বছর আগে হুজুর গাউছে পাক এ মুনাফিক্ব শিয়াদের বিরুদ্ধে লিখেছেন । আল্লামা জালাল উদ্দীন সুয়ুতি রাঃ উনার তারিখুল খোলাফা কিতাবে শিয়াদের বানোয়াট বক্তব্য গুলোর জবাব দিয়েছেন । ঐতিহাসিক মহাত্মা ইবনে খালদুন উনার লিখিত কিতাব গুলোতে শিয়াদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন এবং তাদের আপত্তিকর বক্তব্য গুলোর জবাব দিয়েছেন । তারপরেও থেমে নেই  এ শিয়াবাদ ! 

এবার আসুন, শিয়াদের কৌশল অবলম্বন সম্পর্কে কিছু বলি -------

শিয়াদের প্রথম অভিযোগ হযরত মুয়াবিয়া রাঃ সম্পর্কে । যখন তারা এ বিষয়ে শতভাগ সফল হয়, তখন তাদের দ্বিতীয় টার্গেট হযর ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু এবং হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু । কেননা, উনারাই হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুকে গর্ভনর হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন । তাছাড়া হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর চাচাতো ভাই হলেন হযরত মুয়াবিয়া রাঃ । উমাইয়া ও হাশেমী গোত্রের বিরোধের জের ধরে হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর সম্পর্কে শিয়াদের আপত্তি অসংখ্য । হযরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর সম্পর্কে তাদের অভিযোগ ও বানোয়াট গল্পের শেষ নেই । 

যখন হযরত ওমর এবং হযরত ওসমান রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর সম্পর্কে তারা শতভাগ সফল হয়, তখন তারা বাগে ফেদাকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আঙুল তুলে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর ছিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুর বিরোদ্ধে । সেখানে তাদের ইস্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে গাদিরে খুম, নবীজ্বির দাফন শরীফের মতো সুক্ষ্ম ও স্পর্শকাতর বিষয়গুলো । যা থেকে আপনি কোনভাবেই মুখ ঘুরাতে পারবেননা । এবার আপনি নিজের অজান্তেই মনের গভীর থেকে ঘৃণা করছেন এবং গালি দিচ্ছেন হযরত মুয়াবিয়া, হযরত ওসমান, হযরত ওমর ফারুক ও হযরত আবু বকর ছিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুমদেরকে । এখন আপনার চোখে উনারা সবাই লোভী, মিথ্যাবাদী ও জঘন্য মুনাফিক্ব হিসেবে বিবেচিত হবে । নাউজুবিল্লাহ । 

এরপরে তাদের টার্গেট হতে থাকে উম্মুল মো'মিনীন মা আয়িশা ছিদ্দিকা, মা উম্মে হাফসা, উম্মে হাবিবা রাঃ , হযরত তালহা, জুবায়ের, আমর ইবনুল আস সহ অসংখ্য সাহাবী । 

কয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ খণ্ডন করবেন ? 

শিয়াদের কতোগুলো আপত্তির জবাব দিতে পারবেন ? 

একপর্যায়ে আপনাকে অবশ্যই শিয়াবাদের কাছে নতিস্বীকার করতে হবে এবং নিজের অজান্তেই নবীজ্বির জলিল ক্বদর সাহাবী, আশারায়ে মোবাশ্বারা, ১০ জন ওহী লেখক, মাজহাবের ইমাম, আক্বাঈদের ইমামসহ সবার প্রতি আপনার ঘৃণা জন্মাতে শুরু করবে । শিয়াদের বানোয়াট দলিল ও যুক্তির কাছে আপনার ঈমানের পরাজয় ঘটবে । 

বাকী কথাগুলো আরো বেশি কঠিন !  

তাই এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ----- আপনি কোন পথে যাবেন  !  

আমরা মনেপ্রাণে ও ঈমানে পবিত্র আহলে বাইতের গোলাম । কিন্তু পবিত্র আহলে বাইতের ভালোবাসার লেভেল লাগিয়ে সাহাবায়ে কেরামের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেওয়া, গালি দেওয়া, উনাদেরকে মুনাফিক্ব বলার বিপক্ষে । কারণ, এ সবগুলোই হলো মুনাফিক্ব শিয়াদের পুরনো খাসিয়ত । 

এবার বলুন, আপনি কোন্ পথে যাবেন  ? 

----- কালাগুজা গাউছিয়া হোসাইনীয়া দরবার শরীফ, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ।

২৪/ ৬/ ২০২০ ইং



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ