Ticker

6/recent/ticker-posts

প্রকৃতপক্ষে সুন্নী কারা ?


Sayeed Abdul Qayum Al-Hossainy

--------------------------------

♥♥ সুন্নী মানেই হক্কপন্থী । যারা আক্বিদা, আখলাক ও আ'মলে শতভাগ হক্বের উপরে অটল, তারাই সুন্নী । ৭২ বাতিল ফির্কার সবাই তাদের নিজ নিজ দাবীর পক্ষে পবিত্র ক্বোরআন ও হাদিসের দলিল ব্যবহার করে ।

কারবালার প্রান্তরে সুলতানুশ্ শোহাদায়ে কারবালা হযরত ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুকে নির্মমভাবে হত্যার পক্ষে রায় দিয়েছিল ইয়াজিদপন্থী সাড়ে নয় শত মৌ-লোভী । তারাও তাদের এই জঘন্য কর্মের পক্ষে পবিত্র ক্বোরআন ও হাদিসকে ব্যবহার করেছিল । সময়ের প্রয়োজনে তারা এ নৃশংস হত্যার পক্ষে অসংখ্য যুক্তি দিয়েছিল । সাধারণ মুসলমানের বিশ্বাস ছিল যে, এত অধিক সংখ্যক আলেম কখনোই মিথ্যা বলতে পারেননা । কিন্তু এই মৌ-লোভীরা বাস্তবে ছিল ক্ষমতাশীল কুখ্যাত ইয়াজিদের পদলেহী কুকুর । যারা নিজেদের জীবন ও স্বার্থের প্রয়োজনে হক্বের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল । ধর্মীয় পরিবেশে তাদের মধ্যে কোন কিছুরই অভাব ছিলনা। শুধু অভাব ছিল তাদের অন্তরে খালেছ নবীপ্রেম ও আহলে বাইতের পক্ষে সর্বোচ্চ আদবের ।

সুন্নী দাবী করলেই কেউ সুন্নী হয়ে যায়না । ওহাবী, খারেজী ও দেওবন্ধীরাও নিজেদেরকে সুন্নী দাবী করে । কিন্তু তাই বলে কি তাদেরকে সুন্নী বলতে হবে  ???

তারা তাদের দাবীর পক্ষে অসংখ্য দলিল ও যুক্তি প্রদর্শন করে থাকে । কুখ্যাত কাদিয়ানীরা নিজেদেরকে খাঁটি মুসলিম দাবী করে থাকে । তাদের দাবীর পক্ষে তাদের দলিল ও যুক্তির কোনই অভাব নেই । মুসলমানের মৌলিক সকল কর্মই তারা করে । কিন্তু তারা নবীজ্বিকে শেষনবী হিসেবে অমান্য করার কারনে সারা পৃথিবীর সকল উলামায়ে কেরাম তাদেরকে কাফির হিসেবে সাব্যস্ত করেছে । শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে নবীজ্বি ও আহলে বাইতের প্রেমের কোনই অভাব নেই । কিন্তু নবীজ্বির সম্মানিতা বিবিগণ ও জলিল ক্বদর ছাহাবীদের বিরোদ্ধে তাদের কটুক্তি গুলো এতই জঘন্য যে, তা কোন নাস্তিক ও বির্ধমীরাও করার সাহস পাবেনা । এ কারনেই শিয়াগণ নি:সন্দেহে বাতিলপন্থী । এবার প্রশ্ন হলো, প্রকৃতপক্ষে সুন্নী কারা ???

১. যারা মহান আল্লাহ্ পাকের জাত ও সকল সিফাতের উপরে পূূর্ণ বিশ্বাসী। কোন অবস্থাতেই মহান আল্লাহর কুদরতের সত্তার সাথে কাউকে শরীক করেনা এবং সকল অপবিত্রতা হতে মহান আল্লাহকে পূত-পবিত্র হিসেবে মান্য করে ।

২. যারা প্রিয়নবীজ্বির প্রতি সর্বাবস্থায় পূূর্ণ আদব, তা'জিম ও মুহাব্বাত রাখে এবং কোন প্রশ্ন, আপত্তি ও সন্দেহব্যাতীত প্রিয়নবীজ্বির শান-আজমত এবং ছুন্নাতের প্রতি যত্নশীল থাকে । কোন অবস্থাতেই নবীজ্বির শানে নিজে কোন ধরনের গোস্তাখী বা বেয়াদবী করেনা এবং কোন গোস্তাখে রাছুলের সাথে কোন ধরনের সম্পর্ক রাখেনা ও আপোষ করেনা ।

৩. যারা নিজেদের ঈমান-আক্বিদা হিফাজতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে এবং নবীজ্বির কোন ছাহাবী ও আহলে বাইতের শানে কোন ধরনের বেয়াদবী করেনা এবং উনাদের প্রতি কোন ধরনের বেয়াদবীকারীদের সাথে কোন সম্পর্কও রাখেনা ।

৪. যারা পূর্ববর্তী সকল নবীগণ , ছাহাবায়ে কেরাম ও মুমিনে কামিলগণের বিষয়ে কোনরূপ বাজে মন্তব্য এবং চিন্তা হতে নিজেদের জবান ও অন্তরকে হিফাজাত রাখে ।

৫. যারা জীবনের প্রতিটি কথা, কাজ ও চিন্তাকে যথাযথভাবে উসূলে আরবা তথা শরীয়াত, ত্বরিক্বাত, হাক্বিক্বাত ও মা'রিফাতের সমন্বয়ে  পরিচালনায় সচেষ্ট থাকে ।

৬. যারা তাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনে উপরোক্ত ৫ টি ধারার কোনরকম ব্যত্যয় ঘটায়না এবং কোন অবস্থাতেই ঈমাননাশক কোন শক্তির সাথে দুনিয়াবী স্বার্থে কোন আপোষ করেনা ও সম্পর্ক রাখেনা ।

৭. যারা মহান আল্লাহ্ পাকের ওয়াহদানিয়াত তথা তাওহীদ, আমাদের নবীজ্বি সহ সকল নবীগণের নবুওয়াত তথা রিছালাতের সুমহান শান, প্রিয়নবীজ্বির আহলে বাইত ও ছাহাবায়ে কেরামের শান এবং পূর্ববর্তী সকল মুমিনে কামিলের ইজ্জতের বিষয়ে উত্তম ধারনা পোষন করে, উত্তমভাবে উনাদের প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করে এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে ইসলামের উসূলে আরবা অনুযায়ী জীবন-যাপন করে, উনারাই প্রকৃতপক্ষে সুন্নী ।

এই নীতিমালা সমূহের বিপরিত যা কিছুই আছে, সবই ভ্রান্ত ও গোমরাহী ।

মহান আল্লাহ্ পাক আমাদেরকে প্রকৃত সুন্নী আক্বিদার অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন । আমীন ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ