Ticker

6/recent/ticker-posts

হুজুর আন্ওয়ার সাইয়্যিদুল ক্বাওনাঈন নবী আহমাদ মুজতবা মুহাম্মাদুর রাছুলুল্লাহ্ চ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামার ইন্তিকাল শরীফের পরে নবীজ্বির জিসিম ( নূরানী দেহ ) মোবারক দাফন শরীফে ৩ দিন বিলম্ব করার কারন

 

হুজুর আন্ওয়ার সাইয়্যিদুল ক্বাওনাঈন নবী আহমাদ মুজতবা মুহাম্মাদুর রাছুলুল্লাহ্ চ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লামার ইন্তিকাল শরীফের পরে নবীজ্বির জিসিম  ( নূরানী দেহ )  মোবারক দাফন শরীফে ৩ দিন বিলম্ব করার কারন  :

********** 

সাইয়্যিদ আব্দুল ক্বাইয়ুম আল্ - হোসাইনী রেজভী  (Sayeed Abdul Qayum Al-Hossainy) .

♥♥ এ বিষয়ে গত ৩ দিন আগে অনলাইনে মুনাফিক্ব শিয়া সম্প্রদায়ের বিভ্রান্তির জবাব চেয়ে আমাকে প্রশ্ন করেন আমার মুরিদ Iftekhar Nowshad Raj ( চট্রগ্রাম  ) । 

আমি তাকে যে জবাব দিয়েছিলাম, তা আজ আপনাদের সামনে পেশ করছি । Point গুলো মনে রাখুন এবং শেয়ার বা কপিপেষ্ট করে সর্বত্র ছড়িয়ে দিন ।

১. এটা মহান আল্লাহ্ পাকের সীমাহীন কুদরত ও প্রিয়নবীজ্বির বেমিছাল মু'জিজা । কারন, আজ সাড়ে ১৪০০ বছর পরে ওহাবী, খারেজী ও লা-মাজহাবীসহ সকল শ্রেনী, পেশার মুনাফিক্বেরা প্রিয়নবীজ্বিকে মৃত নবী প্রমান করার ঈমান বিধ্বংশী ব্যর্থ চেষ্টা চালাবে, তা মহান আল্লাহ পাক খুব উত্তমভাবেই জানেন । তাইতো উত্তপ্ত মরুময় আরবের শুষ্ক আবহাওয়ায় প্রিয়নবীজ্বির নূরানী দেহ মোবারক জমিনের উপরে অক্ষত ও সম্পূর্ণ তরতাজা রেখে মহান আল্লাহ নবীজ্বির চিরদুশমন মুনাফিক্বদের কপালে লা'নতের ছাই মেখে দিলেন । হাদিস বিশারদ ও ইসলামী ঐতিহাসিকদের মতে এ ৩ দিনের মধ্যে প্রিয়নবীজ্বির নূরানী দেহ মোবারকের সামান্যতম পরিবর্তনও ঘটেনি । বরং ৩ দিন পর্যন্ত সাহাবায়ে কেরাম দলে দলে নবীজ্বির ক্বদম মোবারকের জিয়ারত সম্পন্ন করেছেন । নবীজ্বির নূরানী দেহ মোবারকের খিদমাতে ছিলেন নবীজ্বির গুপ্তরহস্যের ভাণ্ডার হযরত সাইয়্যিদুনা শেরেখোদা মাওলা আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহুল কারীম নিজেই । যেহেতু তিনি জাহেরীভাবে নবীজ্বির সবচেয়ে নিকটতম ব্যক্তি ও হিজরাতের রাতে নবীজ্বির পবিত্র বিছানা মোবারকে শয়নকারী একমাত্র ব্যক্তি ।

এ ঘটনার দ্ধারা মহান আল্লাহ্ প্রমান করে দিলেন যে, প্রিয়নবী দু'জাহানের মুখতার মৃত নন, বরং তিনি হায়াতুন্নাবী, জিন্দানাবী ।

শুধুই মাত্র উম্মতে মুহাম্মাদীর শিক্ষক হিসেবে জাহেরী হায়াত মোবারকের পর্দা করেছেন । কেননা,  কোন প্রক্রিয়া বিহীন পৃথিবীর বুকে অন্যকারো দেহ ৩ দিন পর্যন্ত জমিনের উপরে সতেজ থাকার কোন নজীর নেই । আধুনিক বিজ্ঞানও বিষয়টি অকপটে স্বীকার করতে বাধ্য ।

২. এটাও মহান আল্লাহর অপরিসীম কুদরত ও দয়াল নবীজ্বির আজমতময় মু'জিজা ।

নবীজ্বি ইন্তিকাল শরীফের সময় বিশ্রামরত ছিলেন উম্মুল মু'মিনীন মা আয়েশা ছিদ্দিক্বা রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহার হুজরা শরীফে । যা আজ নবীজ্বির নূরানী রওজা মোবারক ।  দূর-দূরান্তের ছাহাবায়ে কেরাম কোন মাধ্যমবিহীন এ খবর পান ও কোন দ্রুতযান ব্যতীত উনারা দরবারে নববী শরীফে উপস্থিত হয়ে নবীজ্বির জিয়ারত লাভে ধন্য হন । কোন মুনাফিক্ব যেন ক্বিয়ামত পর্যন্ত নবীজ্বির সুমহান শানের উপরে কোন ধরনের বিরূপ মন্তব্যের সুযোগ না পায়, তাই আল্লাহর কুদরতেই ৩ দিন পর্যন্ত নবীজ্বির নূরানী দেহ মোবারক জমিনের উপরে স্থায়ী করা হয় । নবীজ্বির কোন আনুষ্ঠানিক জানাজা শরীফ হয়নি । তাই কেউ সেখানে ইমামতিও করেননি । দলে দলে সাহাবায়ে কেরাম হুজরা মোবারকে প্রবেশ করেছেন, আর সর্বোচ্চ তা'জিমের সাথে নবীজ্বির ক্বদম মোবারকে চ্বালাত ওয়াত্ তাছলীম পেশ করেছেন । নবীজ্বির শরীর মোবারকের পার্শে কোন সুগন্ধি ব্যবহার করা হয়নি । বরং তখনো ছরকারে দু'জাহার দেহ মোবারক হতে কুদরতময় সুগন্ধি প্রবাহিত হচ্ছিল । যা হতে নবীজ্বির প্রিয় সাহাবীগণ বরকত গ্রহন করেছেন ।

এতকিছুর পরেও যখন জাহেল মুনাফিক্বেরা প্রিয়নবীজ্বিকে " আমাদের মত সাধারন মানুষ " বলার অপচেষ্টা চালায়, তখন তাদের প্রতি মুমিনগণের তীব্রঘৃণা ও লা'নতই প্রযোজ্য  ।

৩. ইসলামকে অংকুরেই ধ্বংশ করার ষড়যন্ত্র মুনাফিক্বদের প্রবল ইচ্ছাকে মহান আল্লাহ রুখে দিলেন । মুনাফিক্বেরা মুমিনদের ২ টি ধারার মধ্যে চরম শত্রুতার বীজবপণ করার চেষ্টা করেছিল  অনেক আগেই । এবার প্রিয়নবীজ্বির ওফাত শরীফকে কেন্দ্র করে তারা কঠিন ষড়যন্ত্রের গুটি চালে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে । নবীজ্বির পরে ইসলামের খলিফা নির্বাচন নিয়ে মুনাফিক্বেরা আনসার ( মাদিনার অধিবাসী ও মাক্কা হতে আগত মুহাজির সাহাবীদের সাহায্যকারী )  এবং মুহাজির  ( যিনিরা ঈমান ও ইসলামের জন্যে নিজেদের সর্বস্ব ফেলে মাদিনায় আশ্রয় নিয়েছেন )  দের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায়।।

মুনাফিক্বেরা মুহাজির সাহাবীগণকে বলতে লাগলো যে,  মুহাম্মাদুর রাছুলুল্লাহ্ চ্বাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম আপনাদের নিকটাত্মীয় , তাই খলিফা আপনাদের মধ্য থেকেই হতে হবে । কারন, আপনারাই এর উত্তম হক্বদার । " অপরদিকে মাদিনার আনসার সাহাবীদেরকে বলতে লাগলো যে, আপনারা আশ্রয় না দিলে মক্কাবাসীদের কোন অস্তিত্বই থাকতোনা । বিধায়,  আপনারাই খেলাফতের সবচেয়ে বড় হক্বদার । " 

মুনাফিক্বদের মূল উদ্দেশ্য ছিল,  আনসার ও মুহাজির সাহাবীদের মধ্যে চরমবিরোধ সৃষ্টির মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে ইহুদী এবং খৃষ্টানদের সহযোগিতায় নবীজ্বির দেহ মোবারকের উপরে হামলা করা ও ইসলামী রাষ্ট্রকে ধ্বংশ করে দেওয়া ।

মুনাফিক্বদের এই ষড়যন্ত্রের বিষয়টি অবগত হবার পরে শেরেখোদা মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু গোপনে বিচক্ষণ সাহাবায়ে কেরামের সাথে যোগাযোগ করলেন এবং বললেন যে, " আমি নবীজ্বির খিদমাতে যাচ্ছি , আপনারা খুবদ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে আগে খলিফা নির্বাচিত করুন । তা নাহলে আমরা ত্রিমুখী হামলার শিকার হব এবং নবীজ্বির দেহ মোবারকের শানেও মুনাফিক্বেরা অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে পারে । বয়স্ক ও প্রবীণতম ছাহাবীদের কাছে খলিফা নির্বাচনের দায়িত্বটি দিয়ে স্বয়ং মাওলা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু নবীজ্বির দেহ মোবারকের খিদমাত ও দাফনকাজ সম্পন্ন করার জন্যে চলে গেলেন । হযরত ফারুক্বে আজম রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহু ও হযরত ওসমান জিন্নুরাঈন রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুসহ আনসার ও মুহাজির সাহাবীদেরকে মুনাফিক্বদের এই জঘন্য ষড়যন্ত্রের বিষয়টি বুঝাতে সক্ষম হলেন ।

অতঃপর, নবীজ্বির বাল্যবন্ধু, হিজরাতের সাথী, সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহনকারী পুরুষ ও নবীজ্বির জাহেরী হায়াতে তাইয়্যিবায় নবীজ্বির অনুমতিক্রমে ইমামতিকারী সর্বমহলে মান্যবর হযরত আবু বকর ছিদ্দিক্ব রাদিয়াল্লাহু তা'লা আনহুকে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রথম খলিফা নির্বাচনের মাধ্যমে পুরো অস্থিতিশীল পরিবেশকে শান্ত করা হয় ।  আর এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে উভয়পক্ষের সাহাবীদের ৩ দিন সময় লেগে যায় ।

বিধায়, এ বিষয়টি নিয়ে মাদিনার মুনাফিক্বদের উত্তরসূরী ওহাবী, খারেজী, লা-মাজহাবী ও মুনাফিক্ব শিয়াদের অতিরঞ্জিত কোন যুক্তি-তর্কই গ্রহনযোগ্য নয় । এ বিষয়টিকে নিয়ে মুনাফিক্ব শিয়া সম্প্রদায় যে তথ্যগত বিভ্রান্তি ছড়ায় ও প্রথম ৩ খলিফার উপরে যেই মিথ্যা তোহমৎ প্রদান করে, তা সম্পূর্ণভাবেই অমূলক ও ভিত্তিহীন।। বস্তুত : তারা তাদের পূর্বপুরুষদের মুনাফিক্বির ইতিহাসকে ধামাচাপা দেবার জন্যেই ইসলামের মহান তিন খলিফাসহ জলিল ক্বদর ছাহাবীদের বিরোদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে । নবীপ্রেমিক ঈমানদারগণ, এই সকল নরাধম মুনাফিক্বদের সকল অপপ্রচার হতে নিজেদের ঈমানকে হেফাজত করুন ও মহান আল্লাহর দয়ার আশ্রয় প্রার্থনা করুন ।

১২ জুলাই ২০১৮


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ